একজন সমাজ সেবক ইসলামী চিন্তাবিত জনাব হাজি মাওলানা মোঃরুহুল আমীন হোসাইনী

দুনিয়ার চিরন্তন নিয়মে মানুষ জন্ম নেয় আর মৃত্যুবরণ করে। এসব মানুষের কেউ কেউ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে মানব সমাজের কাছে। যুগ-যুগান্তরে মানুষ তাদেরকে স্মরণ করে। আবার বহু মানুষ মানুষের স্মৃতি থেকে বিলীন হয়ে যায়। মহান রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের সবাইকে কমবেশি প্রতিভা কিংবা মেধা দিয়ে দুনিয়ায় পাঠান।যারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কিছু মানুষ আছে যারা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, মানুষকে ভালবেসে দূর থেকে দূরান্তরে মানবজাতির জন্য হয়ে যান নিবেদিত প্রাণ। তাঁদেরকে চিনে নিতে হয়, চেনা জানার জন্য চাই ভাল একটা মন ও বিবেক।এখনো যারা নিঃস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের ভিতর থেকে আজ তুলে ধরবো রাঙ্গামাটি জেলা,বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়ন (সাবেক সরোয়াতলী ইউনিয়ন) আলোকিত মানুষ ও নিবেদিত প্রাণ ইসলামী চিন্তাবিত জনাব হাজি মাওলানা মোঃ রুহুল আমীন হোসাইনী (কার্বারি) নামে এক গুণী মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবন কথা৷

১৯৫৫ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার,-বড় মসুয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মহরুম ঊমেদ আলী খলিফা। অত্র এলাকার
সমাজ সেবায় বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষা ও ইসলামী শিক্ষা, বিস্তারের লক্ষে আমতলী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও আমতলী বাজার জামে মসজিদ সহ এলাকার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ সকল প্রকারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনকল্যানমূলক কর্মকান্ড এবং নব গঠিত আমতলী ইউনিয়ন প্রতিষ্টায় তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
তিনি আমতলী ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও আমতলী বাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পেশ ইমাম ও খতিব ছিলেন। তখন কার সময়ে অনেক পারিপার্শ্বিক প্রতিকুলতার মধ্যেও তার সৎ চিন্তা-চেতনা, গণতন্ত্রমনা এবং কঠোর পরিশ্রমী মনোভাব অত্র এলাকায় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক ভুমিকা রেখেছে ।
তিনি আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম উদ্যোক্তা। শুরুতে তিনি এখানে শিক্ষকতা করেন।
তিনি অধীকার বঞ্চিত পার্বত্য বাঙালির দাবি আদায়ের আঞ্চলিক সংগঠন গণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জালাল উদ্দিন আহম্মেদ সাহেবের একনিষ্ঠ ঘনিষ্ট বন্ধু মহলের এক জন ছিলেন। মরহুম হাওলাদার আব্দুল মালেক সাহেবের হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পার্বত্য গণপরিষদ সারোয়াতলী ইউনিয়নের(বর্তমান আমতলী ইউনিয়ন) অধিকার বঞ্চিত বাঙালি জাতির দাবী আদায়ের লক্ষে কাজ করে গেছেন নিরলস ভাবে।পরবর্তিতে তিনি আঞ্চলিক সংগঠন সমঅধিকার আন্দলোনের সারোয়াতলী ইউনিয়নের(বর্তমান আমতলী ইউনিয়ন) প্রথম সভাপতি হন। ৩৮৫নং আমতলী মৌজার একজন বাঙালি কার্বারি। তিনি আমতলী বাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি, প্রাইমারী স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সভপতি ছিলেন এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৩ ইস্ট বেংগল এর আর টি (রিলিজিয়াস টিচার) খতিব ছিলেন।

ইসলামী চিন্তাবিদ জনাব হাজি মাওলানা মোঃরুহুল আমীন হোসাইনী সাহেবের সততা, অথিতি পরায়ণতা, ধর্ম ভীরুতা, মানবতাবাদ, দানশীলতা, সমাজ সেবা আমতলীর ইতিহাসের পাতায় তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।
যুগে যুগে এমন মাহান মানুষের আবির্ভাবে জাতি হয়েছে ধন্য,ওনার সু-সাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

Print Friendly, PDF & Email
Loading...