রোকেয়া পদক পেলেন পাঁচ নারী

সমাজে নিজেদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রোকেয়া পদক-২০১৭ পেয়েছেন পাঁচ নারী।

শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদক প্রদান করেন।

এ বছর যারা রোকেয়া পদক পেয়েছেন, তারা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলী, শিক্ষক শোভা রানী ত্রিপুরা, গ্রাম বিকাশ সহায়তা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্না, চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান ও সাংবাদিক মাহফুজ খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর)।

নারী কল্যাণ সংস্থা ১৯৯১ সাল থেকে রোকেয়া পদক প্রদান করা শুরু করে। সরকারিভাবে ১৯৯৬ সাল থেকে এ পদক দেওয়া শুরু হয়।

২০১৬ সালে রোকেয়া পদক পেয়েছিলেন আরমা দত্ত ও অধ্যাপক নাসিমা বানু (মরণোত্তর)।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একই দিনে জন্ম ও প্রয়াণ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন ঊনিশ শতকের বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর প্রধান পরিচয় নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে।

রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের অর্ন্তগত পায়রাবন্দ গ্রামে। তাঁর সমাধিক্ষেত্র তদানীন্তন বাংলার কলকাতার কাছে চব্বিশ পরগনার সোদপুরে।

বেগম রোকেয়ার অক্ষয় কীর্তি ১৯১১ সালের ১৫ মার্চ কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রতিষ্ঠা। স্কুল চালু করেন মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে। চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪-জনে। ১৯৩০ সালের মাঝামাঝি এটি হাইস্কুলে পরিণত হয়।

স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত রোকেয়া নিজেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। হাস্যরস আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অসম অবস্থান ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর রচনায় তিনি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার রোধ করতে চেয়েছেন। শিক্ষা আর পছন্দানুযায়ী পেশা নির্বাচনের সুযোগ ছাড়া যে নারী মুক্তি আসবে না, তাও বলেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Loading...