সন্তানদের হাতে বই দিলে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘আমরা যদি সন্তানদের হাতে বই কিনে দিই, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। এই বই পড়ে জ্ঞান বাড়বে, তারা প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা দক্ষতা এবং জ্ঞানের পরিচয় দিতে পারবে। তা না হলে দেখা যাবে এমএ পাশ করেও চাকরি মিলছে না।’

০৮ সভেম্বর শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে নীলফামারী শহরের বড়মাঠে আয়োজিত দেশের জেলা পর্যায়ে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে সাতদিনের বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান নূর এসব কথা বলেছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীমের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, নীলফামারী পৌর সভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন, গোলাম নবী হাওলাদার প্রমুখ।

জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, আগামী চার মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগের দুটি করে জেলায় মোট ১৬টি বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের সহযোগিতায় এসব মেলার আয়োজন করবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। নীলফামারী জেলার বই মেলার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এটির সূচনা হলো।

তিনি বলেন, সৃজনশীল প্রকাশনা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতে তুলে দেওয়াই এই মেলার মূল লক্ষ্য।

নীলফামারীর মেলায় দেশের জাতীয় পর্যায়ের ৫৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ অংশ গ্রহণ করছে। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমিসহ ছয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ আটটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিটি মেলা আয়োজিত হবে সাত দিনের জন্য।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বই পড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় থালা, বাটি, গ্লাস উপহার দিয়ে থাকি। এসব ঠুনকো জিনিসের পরিবর্তে আপনারা বই উপহার দিন। তাতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে, সেটি মানুষের মধ্যে স্থায়ী হবে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, মেলাটি ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। জাতীয় পর্যায়ের ৫৫টি প্রকাশানা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৬৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে মেলায়। এ ছাড়া মেলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। এখানে খ্যাতিনাম প্রকাশক, লেখকদের মিলন মেলা ঘটবে। মেলার শ্লোগান হবে আলো ছড়াতে, আধার তাড়াতে বই পড়ি, পাঠাগার গড়ি।

এর আগে সংস্কৃতিমন্ত্রী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২২৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে তিন লাখ ১০ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Loading...